যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মধ্যে তেল-গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। তাতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল একশ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
‘আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিপিডির পরামর্শ’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সংস্থাটির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে সিপিডির নিজস্ব কার্যালয়ের মিলনায়তনে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম স্থানীয় বাজারে কতটুকু প্রতিফলিত হবে, সে ব্যাপারে সরকারের কাছে বিভিন্ন নীতি উপাদান (পলিসি ইনস্ট্রুমেন্ট) রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মুনাফার বাইরেও জ্বালানির ওপর দেশে প্রায় ২০-২৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে সরকার এ কর কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পায়। উদাহরণস্বরূপ বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জ্বালানি আমদানিতে যে ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ছিল, তা তুলে দেয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশে ডিজেল, অকটেন ও অন্যান্য জ্বালানির কয়েক সপ্তাহের মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে সিডিপি ফেলো বলেন, বাংলাদেশের বড় সমস্যা হলো, জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ বা কৌশলগত মজুদ নেই, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় রয়েছে। এ ধরনের রিজার্ভ থাকলে সংকটের সময় বাজারে নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব হয়। বর্তমানে প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে কেনাকাটার কারণে চাহিদার চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে চাহিদা মেটানো যেকোনো দেশের জন্যই কঠিন। তাই বাজারকে আস্থায় আনা ও নিশ্চয়তা দেয়া জরুরি।
মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, সরকার বর্তমানে জ্বালানি পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পট বায়িং করছে। ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির চুক্তিটি পুনরায় চালু করছে। এছাড়া প্রয়োজনে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আনার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। আবার বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে রিজার্ভের ওপর যেন চাপ না পড়ে, সেদিকেও সরকারকে নজর রাখতে হবে।
জ্বালানি তেল কিনতে রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো জরুরি বলেও মনে করেন তিনি। কারণ হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রিজার্ভের ওপর খাদ্যনিরাপত্তা ও সার আমদানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ভর করে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় একটি স্বল্পমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনার পাশাপাশি মধ্যমেয়াদে জ্বালানি তেলের একটি স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা বাজারকে নিশ্চয়তা দেবে। এমনকি ভবিষ্যতে প্যানিক বায়িং থেকে নিষ্কৃতি দেবে।
ব্রিফিংয়ে সূচনা বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।